Saturday, December 10, 2011

হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ মোহাদ্দেছ দেহলবী (রঃ)-এর হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগা কিতাব থেকে উদ্ধৃতি

হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ মোহাদ্দেছ দেহলবী (রঃ) হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগা কিতাবে লিখেছেনঃ-

"জন্মগত স্বভাবের কারণে মানুষের মধ্যে পার্থক্য হয়।"

"সমস্ত পয়গম্বর (আ:) একমত যে সকলের ধর্মই এক। পার্থক্য শুধু শরীয়ত ও ধর্মের নিয়মাবলীতে।"

"মযহাবে অভীজ্ঞজনের মযহাব সত্য।"

"হুজুর (সাঃ) এরশাদ করিয়াছেন - আমাকে তোমাদের সহজতার জন্য প্রেরণ করা হইয়াছে, কঠোরতার জন্য নয়।"

"আল্লাহতা'লা এরশাদ করিয়াছেন, হে বিশ্বাসী সম্প্রদায়, অনেক কিছু প্রার্থনা করিওনা। যদি তোমাদের জন্য উহা উন্মুক্ত হইয়া যায় তখন তোমরা উহাকে অপছন্দ করিবে। তাই প্রশ্নকারীদিগকে হুযুর (সাঃ) পছন্দ করিতেননা এবং বলিতেন - আমি তোমাদিগকে যাহা কিছু বলি তোমরা উহাকেই যথেষ্ট মনে কর, বেশী কিছু জিজ্ঞাসা করিওনা। তোমাদের পূর্ব্ববর্তী উম্মতগণ এই কারণেই ধ্বংশ হইয়া গিয়াছে যে তাহারা বহু কিছু জিজ্ঞাসা করিত এবং নবীদের বিরোধিতা করিত। তিনি আরও এরশাদ করিয়াছেন - মুসলমানদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি পাপী যাহার প্রশ্ন করায় কোন কিছুকে হারাম করিয়া দেওয়া হয়।"


"মোমেন বান্দা নরম শাখার ন্যায়।"


 "বান্দার উপর আল্লাহর হক এবং ফরয এই যে বান্দা আল্লাহকে অসীম সন্মান করিবে।"


"যে ধর্মের ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন করে - তাহার সাথে  আল্লহও কঠোর ব্যাবহার করেন।"


"শিষ্টতা শিক্ষা দেওয়ার জন্য ইয়াতীমকে শাসন করা অন্যায় নহে; কিন্তু কষ্ট দেওয়ার ইয়াতিমকে আঘাত করা পাপ।"


"ভুল করিয়া পাপ করিলে অনেক বিষয়ে ক্ষমা পাওয়া যায়। এই ণীতি মোতাবেক মানুষের এলেম স্বভাব জাহের বাতেন থাকে - এই মোতাবেকই ব্যক্তির জন্য শরীয়ত নির্ধারিত হয়।"


"যখন পৃথিবী শরীয়ত গ্রহন করার জন্য প্রস্তুত হয় এবং ব্যাবস্থাপনা নির্ধারিত করার সময় হয়, তখন আল্লাহপাক তাজাল্লী প্রকাশ করিয়া মানুষের জন্য ধর্মকে গ্রহনযোগ্য করিয়া দেন। সে অনুযায়ী মালায়ে আলা উন্নততর শক্তিতে শক্তিবান হইয়া যায়।  তখন সামান্ন একটি কারণ আল্লাহর বকশীশের দ্বারে আঘাত করার জন্য যথেষ্ট হইয়া যায়। সময়ে বীজ বপন করিলে অতি সহজেই ফসল পাওয়া যায়। অসময়ে হাযার চেষ্টায়ও উহা পাওয়া যায় না।"

Thursday, December 8, 2011

মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী (র.)এর বানী

স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, কাদেরিয়া ও চিশ্তিয়া তরিকার পীর মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী(র.)এর বানী

(সূত্রঃ সন্তোষ  থেকে প্রকাশিত সৈয়দ ইরফানুল বারী সংকলিত “মওলানা ভাসানী বলেছেন” ও “রবুবিয়াত – মওলানা ভাসানীর শেষ কথা” এবং মওলানা ভাসানী (রো.) রচিত “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় – দর্শন ও কাঠামো” গ্রন্থত্রয় থেকে সংকলিত)

“নেতৃবৃন্দকে কখনো জিন্দাবাদ দেওয়া উচিত নয়। ইহাতে তাহাদের মাথা খারাপ হইবার সম্ভাবনা থাকে।”

“শিক্ষিত উচ্চপদস্ত শ্রেনীটি আজ নিজেদের জন্য ভিন্ন জীবন মান সৃষ্টি করিয়া লইয়াছে এবং সেই জীবনমান বজায় রাখিবার জন্য দেশের মানুষকে তাহাদের স্বার্থের যুপকাষ্ঠে বলি দিয়াছে।”

“বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব ব্যক্তি আজ দেশ চালাইতেছে তাহাদের অনেকেই দুর্নীতি, ঘুষ, সুদ, জুয়া ও মদের বন্যায় ভাসিয়া চলিয়াছে। নিজের সংকীর্ণ স্বার্থের কাছে দেশকে, দেশের মানুষকে বিকাইয়া দিতে কুন্ঠিত হইতেছেনা। এই শিক্ষা  মনুষ্যত্ববোধকে জাগ্রত করেনা, বরং মানুষকে আত্ম ও স্বার্থ-সর্বস্ব করিয়া তোলে।”

“বর্তমান শিক্ষায় উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তিরা লক্ষ কোটি ভুখা নাংগা মানুষের ঝুপড়ির পাশে সুরম্য প্রাসাদের বিলাসিতায় গা ঢালিয়া দিতে  মোটেই লজ্জা বোধ করেনা। এই সব লোকেরা শাসন যন্ত্রের বিভিন্ন ঘাঁটি দখল করিয়া ধণিক বণিকদের সংগে যোগসাজশ করিয়া সকল প্রকার অর্থনৈতিক সুবিধা লুটিতেছে;  আর যাহারা চাকুরী পাইতেছেনা তাহারা নিজেদের জীবন ব্যার্থ মনে করিতেছে।  উভয় দলই ধর্ম ও নৈতিকতা জলাঞ্জলী দিয়া ব্যক্তিগত মুনাফাকে শিক্ষার উদ্দেশ্য করিয়াছে।”

“আমি উপলব্ধি করিতে পারিয়াছি, যত সরকারই বদল করিনা কেন, কোন ফলোদয় হইবেনা যদিনা শাসকবর্গ চরিত্রবান হয়। শাসক চরিত্রবান হইলে গোটা সমাজই কল্যাণময় পুত-পবিত্র পরিবেশের দিকে ধাবিত হয়। আর চরিত্রবান লোকেরাই কেবল আল্লাহর রাজত্ব কায়েম করিতে পারে।”

“(বাংলাদেশ স্বাধীণ হওয়ার পর) তোষামোদপ্রিয় মুজিব দুর্নীতিপরায়ণ মোসাহেবদের দ্বারা পরিবেষ্টিত হইয়া ক্রমেই জনগন হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়া পড়িলেন এবং তাঁহার সমস্ত সংগ্রামী চেতনা ও ঐতিহ্য ভুলিয়া আত্মরক্ষার চোরাপথ গ্রহন করিয়া নিজেকে ক্ষমতার বেড়াজালে আবদ্ধ করিয়া ফেলিলেন।... বাংলার মানুষের গলায় স্বৈরাচারের অক্টোপাশ পরাইবার সকল ষড়যন্ত্র মুজিব ও তাহার অনুচর ও সুহৃদরা করিতে লাগিল। ‘তাহারা চক্রান্ত করিয়াছিল, আল্লাহও চক্রান্ত করিয়াছিলেন; আল্লাহ চক্রান্তকারীদের শ্রেষ্ঠ’-আল-ক্বোরান।”

“এই সেদিন যে জাতি সাম্য ও স্বাধীণতার সংগ্রামে চরম আত্মত্যাগের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করিয়াছে, সে জাতি কি করিয়া মাত্র তিন বছরের মধ্যে খুন, রাহাজানি, রিলিফচুরী প্রভৃতি সর্ব্বপ্রকার দুর্ণীতির আবর্তে হাবুডুবু খাইতে লাগিল। ইহার একমাত্র উত্তর, ক্ষমতালিপ্সু, দুর্ণীতিপরায়ন, দেশাত্মবোধ-বর্জিত রাজনৈতিক নেতৃত্বই এই সর্বগ্রাসী অধঃপতনের জন্য দায়ী। আরবীতে একটি প্রবাদ আছে, ‘আন্নাসু আলা দ্বীনে  মুলুকিহিম’ অর্থাৎ জনগন তাহাদের শাসনকর্তাদের আচার আচরণ অনুসরণ করিয়া থাকে।”

“সবার লক্ষ্য যদি স্রষ্টা হয়, সকল সমস্যার সমাধাণকল্পে যদি স্রষ্টার নিয়ম প্রবর্তিত হয়, তাহা হইলে অশান্তি ও হিংসার লেলিহান যুদ্ধবিগ্রহ দূর হইয়া সকল আদম সন্তান ভ্রাতৃত্বের সমাজ গড়িয়া তুলিতে সক্ষম হইবে।”

“খাইয়া পরিয়া স্বাস্থ্য ভাল হইতে পারে, কিন্তু আধ্যাত্মিক উন্নতি ব্যতীত চরিত্র গঠন হইবেনা। মনে রাখিও, সাময়িক ভাবোম্মাদনায় যে উন্নত চরিথ ফুটিয়া উঠে তাহা জোয়ার ভাটা মাত্র।”

“ইসলামের দৃষ্টিতে আত্মিক উন্নতি ছাড়া বৈষয়িক উন্নতি মানুষকে অন্ধ করিয়া ফেলে, আবার বৈষয়িক উন্নতি বাদ দিয়া আত্মিক উন্নতি মানুষের জীবনকে করিয়া তোলে অবাস্তব ও অসামাজিক।”

“আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নাই, সুতরাং সব কিছুর উপর সার্বভৌমত্ব রহিয়াছে একমাত্র আল্লাহর। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর করিয়া ভ্রাতৃত্বর সুদৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ করিয়াছিল কালেমার শাশ্বত বাণী।”

Monday, April 25, 2011

সরকারের কোরআনবিরোধী নারীনীতিসহ ২০ দফা ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রাথমিক শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন


http://www.amardeshonline.com/pages/details/2011/04/26/78655

ক্ষমতা ছাড়ার আহ্বান খেলাফত আন্দোলনের : সরকারের ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ডের শ্বেতপত্র প্রকাশ

স্টাফ রিপোর্টার
 
 ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের কোরআনবিরোধী নারীনীতিসহ ২০ দফা ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রাথমিক শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। গতকাল রাজধানীর একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হয়। এ সময় দলের নেতারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন কখনও করবে না। তিনি নির্বাচনী ইশতেহারেও বলেছিলেন ক্ষমতায় গেলে তার সরকার কোরআনবিরোধী কোনো আইন পাস করবে না। কিন্তু ক্ষমতায় বসে বর্তমান সরকার শুধু নারীনীতিই নয় বরং একের পর এক কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কার্যকলাপের জন্ম ও প্রশ্রয় দিচ্ছে। তারা বলেন, সরকার ভালোভাবে দেশ চালালে যতদিন জনগণ চায় চালাক। কিন্তু ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড করলে তা সহ্য করা হবে না। কোরআনবিরোধীদের সঙ্গে আমাদের কোনো আপস নেই। শান্তিপূর্ণভাবে দেশ চালাতে ব্যর্থ হলে প্রয়োজনে এখনই ক্ষমতা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান নেতারা।

শ্বেতপত্রে বলা হয়, মহান আল্লাহতায়ালা ওহির মাধ্যমে যে নারীনীতি দিয়েছেন, নারীদের কল্যাণে তাই যথেষ্ট। কিন্তু সরকার এই নীতি বাদ দিয়ে জাতিসংঘে গৃহীত সিডো অনুসরণ করে তৈরি নতুন নারীনীতি বাস্তবায়নে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আল্লাহর দেয়া নীতি বাদ দিয়ে এই নীতি করাই কোরআনবিরোধী। তাছাড়া সব ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমঅধিকার কথাটাও বেহুদা। নারীনীতির কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক ধারাগুলোর ব্যাপারে দেশের আলেমরা বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার করলেও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে এতে ইসলামবিরোধী কিছু নেই। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

নারীনীতি ছাড়াও সরকারের অনৈসলামিক কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে বলা হয়—রাষ্ট্রপতি ফতোয়া বন্ধ করার যে ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন তা কোরআনের সুরা নিসার ১৭৬ নম্বর আয়াতের বিরোধী। রাসূল (সা.)-এর জন্ম নিয়ে কটূক্তিকারীর বিচার না করা হাদিসবিরোধী। পবিত্র কোরআনের বিশুদ্ধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট আবেদন সুরা বাকারার ২ নম্বর আয়াতের বিরোধী। পবিত্র হাজরে আসওয়াদকে শিবলিঙ্গের সঙ্গে তুলনার পরও সরকারের নীরবতা কোরআনবিরোধী। সংবিধানে কোরআনবিরোধী বিভিন্ন বিষয় সংযুক্তি, ভারতের মতো ধর্মনিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠার জন্য উঠেপড়ে লাগা, ফরজ বিধান হিজাববিরোধী রায় ও পরিপত্র জারি, অনৈসলামিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজি সামীম মোহাম্মদ আফজালকে বহাল রাখা, আলেম-ওলামা ও কওমি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদের অপপ্রচার, ইসলামবিরোধী জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন সরকারের কোরআন-হাদিসবিরোধী কর্মকাণ্ডের মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

খেলাফত আন্দোলন নেতারা বলেন, সরকার নিজের ভুল না বুঝে উল্টো আন্দোলনকারী হাফেজ, আলেমদের হত্যা, মিথ্যাবাদী বলা, গ্রেফতার, হয়রানি ও গুম করছে কার স্বার্থে দেশবাসী তা জানতে চায়। মুফতি আমিনী হাফেজ্জি হুজুরের এতিম সন্তানদের সম্পদ আত্মসাত্ করেছে বলে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য, মিথ্যা ও বানোয়াট। হাফেজ্জি হুজুরের খান্দানের কিছু হলে সরকারের পতন অনিবার্য বলে উল্লেখ করে নেতারা বলেন, সরকার সাংবিধানিকভাবে বৈধ হরতালে বাধা দিয়ে অন্যায় ও অপরাধ করেছে। নারীনীতি নিয়ে তারা যে ফাসাদ সৃষ্টি করছে তাতে বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নের চক্রান্তই প্রকাশ পাচ্ছে—যা কোরআনবিরোধী। সরকার রিমান্ডের নামে অমানবিক নির্যাতন, বিনা বিচারে উলঙ্গ করে পুরুষাঙ্গে ইলেকট্রিক শক দেয়া সম্পূর্ণ হারাম ও কোরআন-হাদিসবিরোধী।

২০ দফা ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের বাইরেও ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি এবং জুলুমের বর্ণনা দেয়া হয় শ্বেতপত্রে। এ প্রসঙ্গে বলা হয়, এ সরকারের সময় কোরআন তিলাওয়াতের পরিবর্তে রবীন্দ্রসঙ্গীত দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু, আল্লাহর ক্ষমতা নিয়ে সিইসি’র কুফরি মন্তব্য, আজান সম্পর্কে বাজে মন্তব্য, মাদ্রাসা ছাত্রের হাত কেটে নেয়া, স্কুলের সাইনবোর্ড থেকে কোরআনের আয়াত তুলে ফেলা, রাবিতে পায়জামা-পাঞ্জাবি, টুপি-দাড়ি ও হিজাবের ওপর আপত্তি করা, ইডেন কলেজে ছাত্রী পাচারের ঘৃণ্য কাজসহ সারাদেশে খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দলপ্রীতিতে ইনসাফ ও মানবতা ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে। এসব কাজ ইসলামবিরোধী। তারা অবিলম্বে নারীনীতিসহ ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড বাতিল, গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে সরকারকে বলেন, হঠকারিতা ছেড়ে শান্তিতে ক্ষমতায় থাকুন। নতুবা ভয়াবহ পরিণতি দেখবেন। তখন হা-হুতাশ করেও লাভ হবে না বলে সতর্ক করেন নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে শ্বেতপত্র পাঠ করেন খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা জাফরুল্লাহ খান। এ সময় দলের আমির শাহ আহমদুল্লাহ আশরাফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সাজিদুর রহমান ফয়েজি, ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা ফখরুল ইসলাম, মাওলানা সুলতান মুহিউদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Wednesday, March 9, 2011

সংবিধানের দোহাই দিয়ে ফতোয়া এবং ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হবে কোরআনকে নিষিদ্ধ করার শামিল -শাহ আহমদুল্লাহ আশরাফ


http://www.amardeshonline.com/pages/details/2011/03/06/71026

ঢাকা, রবিবার ৬ মার্চ ২০১১, ২২ ফাল্গুন ১৪১৭,৩০ রবিউল আউয়াল ১৪৩২  

খেলাফত আন্দোলনের কোরআন মিছিল : ফতোয়ার ওপর হাত দিলে সারাদেশে আগুন জ্বলবে

স্টাফ রিপোর্টার
 
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা শাহ আহমদুল্লাহ আশরাফ বলেছেন, ফতোয়া হচ্ছে ইসলামী জীবনব্যবস্থা। মুসলমানদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক লেনদেনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই শরীয়তের বিধান জানা ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা ফতোয়ার সঙ্গে যুক্ত। কোরআন-সুন্নাহ, ইজমা-কিয়াসের আলোকে নাগরিকদের কোনো জটিল সমস্যার ধর্মীয় সমাধানের নামই ফতোয়া। ফতোয়া ছাড়া কোনো মুসলমান চলতে পারে না। এটা মুসলমানদের সাংবিধানিক ও ধর্মীয় অধিকার। ফতোয়াতে বাধা দেয়ার অর্থ ইসলাম ধর্ম পাালনে বাধা দেয়া। এটা ধর্মপ্রাণ জনতা বরদাশত করবে না। কোরআনের বিরুদ্ধে মতামত দেয়ার অধিকার কারও নেই। সংবিধানের দোহাই দিয়ে ফতোয়া এবং ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হবে কোরআনকে নিষিদ্ধ করার শামিল। ফতোয়ার ওপর হস্তক্ষেপ হলে সারাদেশে আগুন জ্বলে উঠবে। সরকার পতনের একদফার আন্দোলন শুরু হয়ে যাবে।

গতকাল রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে কোরআন-সুন্নাহর বিধান ফতোয়া এবং ইসলামী রাজনীতি বন্ধ করার পাঁয়তারার প্রতিবাদে খেলাফত আন্দোলন ঢাকা মহানগর আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মহানগর আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ জাফরুল্লাহ খান, মুহাম্মদ আ’জম খান, মাওলানা সাজেদুর রহমান ফয়েজী, মাওলানা ফখরুল ইসলাম ও খেলাফত ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি মাওলানা সুলতান মহিউদ্দিন প্রমুখ। সমাবেশ শেষে ফতোয়া ও ইসলামী রাজনীতি বন্ধ করার পাঁয়তারার প্রতিবাদে রাজধানীতে একটি পবিত্র কোরআন হাতে নিয়ে গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি জিরো পয়েন্ট, জাতীয় প্রেস ক্লাব, পল্টন মোড় হয়ে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে এসে সমাপ্ত হয়।

মুফতি আমিনী : এদিকে ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির আমির ও ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনী বলেছেন, ইসলাম, ফতোয়া, কোরআন নিয়ে সরকার যে সর্বনাশা খেলায় মেতে উঠেছে তা অত্যন্ত ভয়াবহ। এদেশকে স্পেন বানানোর পদক্ষেপ স্পষ্ট হচ্ছে। ওলামা মাশায়েখ ও দ্বীনদাররা মিলে যদি এই সর্বনাশা খেলা বন্ধ করা না যায় তাহলে আমাদের ও দেশের ভাগ্যে বড় দুর্দিন অপেক্ষা করছে। বড় ধরনের প্রতিরোধ ছাড়া এই সর্বনাশা ও ধ্বংসাত্মক খেলা বন্ধ করা যাবে না। প্রয়োজনে লাগাতার হরতাল ডেকে এই ইসলাম বিধ্বংসী ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে। তিনি গতকাল খুলনা নিরালার আল মারকাজুল ফিকহী ইসলামী প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

নেজামে ইসলাম পার্টি : নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি মাওলানা আবদুর রকিব অ্যাডভোকেট ও মহাসচিব মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী এক বিবৃতিতে বলেন, ইসলাম সম্পর্কিত যাবতীয় জিজ্ঞাসার উত্তর ফতোয়া সম্পর্কে একশ্রেণীর মানুষের নেতিবাচক মনোভাব সংবিধান পরিপন্থী। কারণ সংবিধান ধর্ম পালনে সবাইকে অধিকার দিয়েছে।

খেলাফত মজলিস : খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শফিক উদ্দিন বলেছেন, ইসলামী জীবন বিধানের অবিচ্ছেদ্য অংশ ফতোয়া নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা কারও নেই। আওয়ামী লীগ আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে ফতোয়া নিষিদ্ধের চেষ্টা করলে সর্বস্তরের মানুষ একদফার আন্দোলন শুরু করতে বাধ্য হবে।