Tuesday, October 3, 2017

নির্বাচন কমিশনের সাথে খেলাফত আন্দোলনের সংলাপ অনুষ্ঠিত; ৩৮ দফা প্রস্তাব পেশ


অক্টোবর ০২, ২০১৭ ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম


সোমবার বিকাল ৩টায় আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের ১৫ সদস্য প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দলের আমীর আল্লামা শাহ আতাউল্লাহ ইবনে হফেজ্জী হুজুর।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন, দলের মহাসচিব মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াযী, নায়েবে আমীর আলহাজ আনিসুর রহমান জিন্নাহ, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মীর ইদ্রীস, মোঃ রোকনুজ্জামান রোকন, মাওলানা আবু তাহের, হাজী জালাল উদ্দিন বকুল, মাওলানা সাঈদুর রহমান, মাওলানা সুলতান মহিউদ্দীন, এডভোকেট মোহাম্মাদ লিটন চৌধুরী, মাওলানা সানাউল্লাহ, মাওলানা ফিরোজ আশরাফী ও হাফেজ মাওলানা অলীউল্লাহ। নির্বচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন, নির্বাচন কমিশনার মো: রফিকুল ইসলাম, মাহবুব তালুকদার, শাহাদাত হেসেন চৌধুরী, কবিতা খানম, সচিব হেলাল উদ্দিন আহমেদ ও আসাদুজ্জামান।

খেলাফত আন্দোলনের প্রস্তাবাবলীতে বলা হয়, সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণে জনসংখ্যা অনুপাতে ভৌগলিক দূরত্ব ও যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রতি খেয়াল রাখা। মহিলাদের সব আসনে নির্বাচনে অংশগ্রহন করার সুযোগ থাকায় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসন বিলুপ্ত করা। নির্বাচনে ই ভি এম বা ডিভিএম ব্যবহার না করা। মনোনয়নপত্র দাখিলের বিধান সহজ করা, অনলাইনেও মনোনয়নপত্র দাখিলের বিধান করা। প্রার্থীর জামানত ১০ হাজার টাকার মধ্যে রাখা। ভোটার তালিকা সম্বলিত সিডি প্রার্থীকে বিনামূল্যে প্রদান করা। চলমান সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান করা। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত প্রার্থীর গেজেট প্রকাশ না করে ফের নির্বাচনের বিধান করা। তাহলে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথও বন্ধ হবে।

ইসলাম বিদ্বেষী, কালোটাকার মালিক, অবৈধ সম্পদকে বৈধকারী এবং ঋণখেলাপীদের সাথে জড়িত পরিবারবর্গকে নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা করা। তারা নির্বাচিত হলেও কমিশন কর্তৃক সদস্যপদ বাতিলের আইন করা।

রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন শর্তাবলী শিথিল করা, সকল কমিটিতে ৩৩% মহিলা সদস্য রাখার বাধ্যতামূলক ধারাটি বাতিল করা, কোরআন-সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক কোন শর্ত আরোপ না করা।
নির্বাচনে ব্যয়ের বৈধ সীমা ক্রমাগত বেড়ে চলায় সৎ যোগ্য আদর্শবান সাধারন নাগরিকগণ সংসদ সদস্য হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নির্বাচনী ব্যয় ২৫ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ১০ লাখ টাকার মধ্যে আনা।

সবার জন্যে সমান সুযোগ তথা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সব রাজনৈতিক দলের সমান সুযোগ সৃষ্টি করা। ভোট ক্রয়-বিক্রয় এবং কালো টাকা ও পেশী শক্তির ব্যবহার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। প্রার্থী ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। প্রবাসীদের জন্য ভোটাধিকার প্রয়োগের সুব্যবস্থা রাখা। ভোট কেন্দ্র সিসিটিভির আওতায় আনা, নির্বাচনী কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোন দলীয় লোকদের মেহমানদারী গ্রহনের ব্যপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা । ভোটের আগের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে সেনাবাহিনীসহ পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা। বাংলাদেশে কোনো দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রমান নেই। অতএব একটি অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সংবিধান সংশোধন করে হলেও র্নিদলীয় নিরপেক্ষ ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পূর্ণবহাল করা।

খেলাফত প্রধান আল্লামা আতাউল্লাহ বলেন, নির্বাচন পদ্ধতি যত উন্নত ও নিখুঁত হবে, নির্বাচনের সুষ্ঠুতা ও নিরপেক্ষতা তত প্রশ্নহীন হবে, ফলে আস্থা ও বিশ্বাস সুদৃঢ় হবে এবং দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সৃষ্টি হবে।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একটি বিতর্কিত ও অগ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কারণে দেশে রাজনৈতিক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। একতরফা এ নির্বাচনে সুস্থ গণতান্ত্রিক রাজনীতি যেমন বিপন্ন হয়ে পড়েছে তেমনি আর্ন্তজাতিকভাবেও বাংলাদেশের ভাবমর্যাদার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নতজানু নীতির ফলে মানুষের ভোটের অধিকার ভূলণ্ঠিত হয়েছে। চলমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে দেশে একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল ও জবাবাদিহীমূলক সরকার ও কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরী।

একই সাথে নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার তথা নির্বাচনী ব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্যে সকল দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। এজন্য নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ও বলিষ্ঠ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের ৩৮ দফা প্রস্তাবাবলি একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সহায়ক হবে এবং বিতর্কিত নির্বাচনের অবসান ঘটবে।

রোহিঙ্গা সংকট-সমাধানের সন্ধানে গোলটেবিল বৈঠকের সভাপতি বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীরে শরীয়তের উদ্বোধনী বক্তব্য



 
স্থান: জাতীয় প্রেসক্লাব ভি,আই,পি লাউঞ্জ।   
   
তারিখ: ২৫/০৯/২০১৭

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ

মুহতারাম,

ওলামায়ে কেরাম, সূধীজন সাংবাদিক ভায়েরা

আজকের এই গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহনকারী সন্মানীত বিজ্ঞ মেহমানবৃন্দ এবং সাংবাদিক ভাইয়েরা। এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজক বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের পক্ষ থেকে সবাইকে স্বাগতম। রোহিঙ্গা সংকট সমাধাণের জন্য আপনারা আপনাদের চিন্তা ব্যাখ্যা তুলে ধরবেন। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে পরামর্শ করে পদক্ষেপ নিতে বলেছেন। আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, মুসলমান শাসনাধীন এলাকায় বসবাসকারী অমুসলমানরা যদি মজলুম হয় তাহলে কেয়ামতের শেষ বিচারের দিন নবী সাঃ অমুসলমানদের পক্ষে উকীল হবেন। ফলে ধার্মিক মুসলমান ন্যায়পরায়ণতা ইনসাফের পথে চলতে বাধ্য।

আমার আব্বাজান হযরত মওলানা মোহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর (রহঃ) সকল মানুষকেই একই পিতা-মাতা হযরত আদম (আঃ) মা হাওয়া (আঃ) এর বংশধর হিসাবে গন্য করে অমুসলমানদেরকেও খান্দানী ভাই হিসাবে গন্য করতে বলেছেন। আমরা  এই নীতি মেনে চলার চেষ্টা করি। পৃথিবী সকল জাতিই যদি এসব উত্তম নীতি আদর্শ মেনে চলি তাহলে পৃথিবীতে শান্তি ইনসাফ কায়েম হবে বজায় থাকবে।

সন্মানীত সুধী,
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত অধিকার। বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার সরকার সে দেশের মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদেরকে সমূলে উচ্ছেদের জন্য নাগরিকত্ব আইন পরিবর্তন করেছে। সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মগুরুরা নিরাপত্তাবাহিনীর সাথে একাত্ম হয়ে আরাকানের হাজার হাজার নিরীহ নিরপরাধ রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে গণহত্যা নিপীড়ন-নির্যাতন করছে, গ্রামের পর গ্রাম, মসজিদ-মাদরাসা কুরআন-হাদিস আগুন দিয়ে ¦ালিয়ে দিচ্ছে। মিয়ানমারে নিরপরাধ শিশু-বৃদ্ধসহ অসংখ নারী-পুরুষের লাশ নাফ নদীতে ভাসছে। আরাকানে রোহিঙ্গাদের উপর এত জুলুম করা হচ্ছে যা ভাষায় বর্ণনা করা যায় না।

আরাকান একটি স্বাধীণ রাজ্য ছিল। মুসলিম জনগোষ্ঠি আরাকানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১৭৮৪ সালে আরাকান রাজ্য যুদ্ধে পরাজিত হলে বার্মার দখলে যায়। বার্মার সৈন্যদের জুলুম অত্যাচারে আরাকানের বহু মুসলমান বৌদ্ধ সংলগ্ন বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বৃটিশের কাছে বার্মা যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর অধিকাংশ আরাকানী মুসলমান আরাকানে ফিরে যায়। এটা ঐতিহাসিক সত্য। রোহিঙ্গা মুসলমানরা জন্ম সূত্রে সে দেশের নাগরিক। তাদের জান-মালের নিরাপত্তা, বাসস্থানসহ সকল অধিকার তাদের ন্যায্য পাওনা। এভাবে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে দেশান্তর করে  মিয়ানমার সরকার জাতীয় আন্তর্জাতিক সকল আইন মানবাধিকার লঙ্গন করছে।

সম্মানীত ভায়েরা
মিয়ানমার সেনাবাহিনী কর্তৃক নিরীহ রোহিঙ্গা মুসলিম নারী-শিশু  নির্বিশেষে বর্বর নৃসংশ হত্যাযজ্ঞ পৃথিবীর ইতিহাসের সকল বর্বরতাকে হার মানিয়েছে। নতজানু হয়ে হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করা যাবে না। রোহিঙ্গা মুসলিম রক্ষা এবং মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বন্ধে বাধ্য করতে মিয়ানমার সরকারের সাথে কুটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন এবং অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করার জন্য জাতিসংঘ, ওআইসিসহ সকল মুসলিম রাষ্ট্র প্রধানদের ভুমিকা রাখতে হবে। বাংলাদেশসহ সকল মুসলিম দেশ থেকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদুতকে বহিস্কার করতে হবে। আমরা আজকের বৈঠক থেকে রোহিঙ্গাদের রক্ষায়  মুসলিম নেতৃবৃন্দসহ জাতিসংঘ, ওআইসি, ন্যাম, আসিয়ান সার্কসহ সকল আন্তর্জাতিক মহলকে এগিয়ে আসার আহবান জানাই।

আরকানের রোহিঙ্গারা যাতে তাদের নিজ মাতৃভূমিতে সম্মান নিরাপত্তার সাথে ফিরে যেতে পারেন বসবাস করতে পারেন সে জন্য স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কর্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি এবং জন্য আমাদের যা করনীয় তা করার বুদ্ধি-কৌশল তৌফিক আল্লাহর কাছে চাই। আরাকানের ভিতরে এখনো যেসব রোহিঙ্গা প্রাণভয়ে রয়েছেন তাদের নিরাপত্তার জন্যও আল্লাাহর কাছে প্রার্থনা করি উপায় বের করি। রোহিঙ্গা মুসলমানদের রক্ষায় বাংলাদেশে অবস্থানরত অসহায় রোহিঙ্গাদের সাহায্যের পাশা-পাশি মিয়ানমারে অব্যাহত গণহত্যা বন্ধে একদল জানবাজ যুদ্ধা প্রতিরোধে ঝাপিয়ে পরতে হবে। এবং রোহিঙ্গা মুসলমানদের জন্য আরাকানকে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কর্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

আমরা সবাই মিলে চাইলে চেষ্টা করলে আল্লাহ উপায় উপকরণ দেবেন ইনশাআল্লাহ।
আপনাদের সবাইকে আজকের এই গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত হওয়ায় আবারো মুবরকবাদ জানাই।



ওয়াসসালাম


মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী হুজুর
আমীরে শরীয়ত
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন